বিটুমিন সরবরাহে হয়রানি, যমুনা অয়েলের জিএমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

বিটুমিন সরবরাহে হয়রানির অভিযোগে যমুনা অয়েল পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা অফিস আদেশে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। রোববার (২৩ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন যমুনা অয়েল পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ হাসান ইমাম এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইসতিয়াক হোসেনকে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মো. মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিটুমিন সরবরাহে হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে কমিটি বিস্তারিত তদন্ত করবে। তদন্ত শেষে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ঠাকুরগাঁওয়ের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর যমুনা অয়েলে বিটুমিন কেনার জন্য পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিটুমিন সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. আবদুস সামাদের দাবি, সাধারণত পে-অর্ডার জমা দেওয়ার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বিটুমিন পাওয়ার কথা থাকলেও ছয় মাসেও তাঁরা তা পাননি। এ সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও সমাধান না পেয়ে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন।

তিনি জানান, গত ৩ মে যমুনা অয়েলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের পর ৫ মে বিটুমিন পাওয়ার আশায় তাঁর প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও থেকে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে যান। সেখানে দিনভর অপেক্ষার পর তাঁকে জানানো হয়, তাঁর সিরিয়াল নম্বর ৯৫ হওয়ায় ওই সময় বিটুমিন দেওয়া সম্ভব নয়।

অভিযোগকারী আরও বলেন, বিটুমিন সরবরাহের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সমাধান না হওয়ায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে একাধিকবার যোগাযোগের পর বিটুমিন সরবরাহ করা হয়।

আবদুস সামাদের অভিযোগ, পে-অর্ডার জমা দেওয়ার ছয় মাস পরও বিটুমিন না পাওয়ায় তাঁদের নানা ধরনের সিরিয়াল নম্বরের কথা বলা হয়েছে। কাজের গুরুত্ব জানিয়ে বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান হয়নি। এমনকি দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর পে-অর্ডার ফেরত চাইলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে মো. মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যমুনা অয়েলে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিপিসির গঠিত তদন্ত কমিটি বিটুমিন সরবরাহে হয়রানির অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *