জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাহানারা ইমাম হলে ছাত্রীদের রাত ১১টার মধ্যে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ। সংগঠন দুটি এই সিদ্ধান্তকে ‘সান্ধ্য আইন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
বুধবার হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হল সংসদের পঞ্চম সভার সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে রাত ১১টার মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাত ১১টার পর কোনো ছাত্রী হলের বাইরে যেতে পারবেন না। ওই সময় হলের মূল প্রবেশদ্বারে তালা দেওয়া হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে রাত ১১টার পর হলে প্রবেশের প্রয়োজন হলে গার্ডরুমে সংরক্ষিত রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রতিবাদ জানায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।
শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট জানায়, নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ কোনো সমাধান নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ সড়ক ও পথ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবহন ও দায়িত্বশীল প্রহরার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির ভাষ্য, একজন নারী শিক্ষার্থী কখন হলে ফিরবেন, কোথায় যাবেন বা ক্যাম্পাসে কতক্ষণ অবস্থান করবেন—তা প্রশাসনের নির্ধারণ করার বিষয় নয়। অবিলম্বে জাহানারা ইমাম হলে আরোপিত সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে আবাসিক হলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে নারী নিরাপত্তা মঞ্চও পৃথক বিবৃতিতে রাত ১১টার মধ্যে ছাত্রীদের হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে ‘নারীবিদ্বেষী সান্ধ্য আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, রাত ১১টার পর হলের মূল ফটকে তালা দেওয়া, বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা এবং জরুরি প্রয়োজনে গার্ডরুমের রেজিস্টারে কারণ লিখে রাখার বিধান শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল।
নারী নিরাপত্তা মঞ্চের দাবি, নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ পিতৃতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের একটি রূপ। হল সংসদের ভোট ও নারী শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
তারা জাহানারা ইমাম হলে আরোপিত সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার, ছাত্রী হলগুলোতে এ ধরনের বিধিনিষেধের পরিকল্পনা বাতিল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ, প্রবেশদ্বার সংস্কার, কুইক রেসপন্স টিম ও জরুরি হটলাইন চালুর দাবিও জানিয়েছে নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।
এর আগে ২০১৪ সালে জাহানারা ইমাম হলে এবং ২০১৮ সালে একযোগে ছাত্রী হলগুলোতে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সেসব উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল বলে দাবি তাদের।












