নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা ব্যারিকেড, নিরাপত্তাবেষ্টনী ও কিছু স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেসিবি মেশিন দিয়ে এসব স্থাপনা সরানো হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, হাইকমিশনের বাইরে থাকা এসব স্থাপনা অনুমোদিত সীমানার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযানে সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন কাঠামো, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের খুঁটি ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। ভিসা বিভাগের কাছে দর্শনার্থীদের লাইন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু স্থাপনাও এর মধ্যে ছিল।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মাত্র তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তাবেষ্টনী সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের বাইরে পাল্টাপাল্টি স্থাপনা অপসারণকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লিতে অভিযানের সময় পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল প্রবেশপথ অক্ষত রাখা হয়েছে। তবে হাইকমিশনের বাইরের অংশে থাকা ধাতব রেলিং, গেট, বেড়া ও বিভিন্ন কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অভিযানের পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ছবিতে ভাঙা রেলিং, কংক্রিটের টুকরো ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে হাইকমিশনের মূল ভবন বা প্রধান গেটের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার কাশ্মীর নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীনগর সফরের সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারকে তলব করে পাকিস্তান।
তবে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা ভাঙার সঙ্গে ওই কূটনৈতিক বিরোধের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
ফলে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তাবেষ্টনী সরানোর পর দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা অপসারণ—দুই ঘটনাকে অনেকেই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এতে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply