ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই নীতিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
গত বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করলে তাকেও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের তেল পাচার, অর্থ লেনদেন, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রম করেছে।
বাকাই আরও বলেন, কোনো রাষ্ট্রের ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তিনি এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’কে সার্বভৌম সমতার নীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন।
ইরানি মুখপাত্রের ভাষ্য, অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে নৌ অবরোধ যুক্ত হলে তা অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপরও হস্তক্ষেপের শামিল হবে। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে আন্তর্জাতিক অন্যায় ও বিপজ্জনক চাপ প্রয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা












