দিনাজপুরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে কুখ্যাত ডলার প্রতারক গ্রেপ্তার

তানভীর আহাম্মেদ, রিপোর্টার: দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডলার প্রতারকচক্রের অন্যতম সদস্য রশিদুল (৫২)কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার শাখার সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি চৌকস দল।

দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে দিনাজপুর সদর থানাধীন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রশিদুল (৫২) দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় ডলার প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে খানসামা থানাধীন ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়ায় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ডলার প্রতারণার সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনার পর ডলার প্রতারকচক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রশিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রশিদুল ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারকচক্রের কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিজেদের কখনো দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক বা কারখানার শ্রমিক পরিচয় দিয়ে তারা ভুক্তভোগীদের জানান, তাদের কাছে কুড়িয়ে পাওয়া কিছু ডলার রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কীভাবে বিক্রি বা টাকায় রূপান্তর করতে হয়, তা তারা জানেন না।

কম দামে ডলার বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নির্ধারিত স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা ডিবি বা সিভিল পুলিশের পরিচয়ে উপস্থিত থাকেন। ডলার কেনাবেচার সময় ভুক্তভোগীকে অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে আরও টাকা আদায় করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রতারকচক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে থাকেন। চক্রটির সঙ্গে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতারণার সময় চক্রের সদস্যরা সাধারণত পাশাপাশি থানার সীমান্তবর্তী এলাকা বেছে নেন। এতে পুলিশি অভিযানের সময় দ্রুত এক থানা এলাকা থেকে অন্য থানা এলাকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় তারা।

গ্রেপ্তার রশিদুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডলার প্রতারকচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *