ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি ইন্টারসেকশনে চালুর পর এবার রাজধানীর আরও ৫০টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরা ও আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ৫০টি সিগন্যালের মধ্যে ২৮টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ২২টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে চালকদের ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন ব্যবস্থায় সড়কে যানবাহনের চাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হবে। ফলে সার্বক্ষণিক আলাদা অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ট্যাব ব্যবহার করে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে চালকদের মধ্যেও সতর্কতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক চালক এখন আগের তুলনায় নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছেন।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ফুটপাত দখল, নির্ধারিত স্থান ছাড়া পথচারীদের রাস্তা পারাপার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক কর্মকর্তারা।
এদিকে সিগন্যাল ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত তদারকি ও দ্রুত সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশের অধীনে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।












