যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে নথিপত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় দুই লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করা হচ্ছে, যারা স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
তবে ভিসা বাতিলের অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার হওয়া নয়। যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের অনেকেই অন্য অভিবাসন অবস্থানের আওতায় থেকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন পাশ কাটানোর মাধ্যম হিসেবে আশ্রয়প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা, কিছু আবেদনকারীর জন্য ভিসা বন্ড এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা সীমিত বা বন্ধ করার উদ্যোগ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।












