বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব, অসদাচরণ, আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিব বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক কর্মী, ‘বাংলাপোস্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. পারভেজ এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বিটিভির অডিশন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ। ওই অডিশনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব, অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে নাট্যকার, শিল্পী ও কলাকুশলীরা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, এসব অভিযোগের কিছু অংশ তদন্তের আওতায় এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অডিশন কমিটির সদস্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোল্লা আবু তৌহিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম ও সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও একই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তাসমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে সমপর্যায়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ড. তাসমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিটিভিতে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি অপসারণ, গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি, রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ শনাক্ত ও সংরক্ষণ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনস্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের এবং সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশনসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ তার স্বামী সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মহসীন এবং সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিটিভির বার্তা সম্পাদক থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পর্যন্ত পালন করেছেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিটিভিতে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করানোর অভিযোগও লিগ্যাল নোটিশে করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।












