মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে বলেছেন—‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
তিনি সবাইকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ও অন্যায় পরিহার এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরিশেষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের তাওফিক প্রার্থনা করেন।












