শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ সীমিত করার লক্ষ্যে গত ২৪ আগস্ট ‘অনলাইন সেফটি বিল’ সামনে আনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে কিশোর-কিশোরীরা ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তিমূলক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন চাপের মুখে পড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব তাদের পারিবারিক সম্পর্ক, ঘুম, পড়াশোনা এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপরও পড়ছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুকসন জানিয়েছেন, দেশটির ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটায়। এই পরিস্থিতি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত আইনে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কোনো ব্যবহারকারী ১৬ বছরের কম বয়সী কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে।
বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টে থাকা তথ্য, বয়স অনুমানের প্রযুক্তি, ডিজিটাল আইডি কিংবা সরকারি পরিচয়পত্রের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ জরিমানা হতে পারে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের জন্য কোনো শিশু কিংবা তার বাবা-মাকে জরিমানার আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়নি। অর্থাৎ আইনটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীল করা।
প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসতে পারে। তবে শিশু-কিশোরদের ব্যবহৃত সব ধরনের অনলাইন পরিষেবাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে না।
মেসেজিং পরিষেবা, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং কাজ বা তথ্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু এআই পরিষেবাকে প্রস্তাবিত কাঠামোর বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও কোপাইলটের মতো উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত এআই পরিষেবাগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে আবেগগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির জন্য তৈরি এআই ‘কোম্পানিয়ন’ পরিষেবার ক্ষেত্রে আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
নিউজিল্যান্ড সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু-কিশোরদের ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট ও আসক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও মানসিক সুস্থতার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।












