প্যান্ট পরার সময় সাধারণত কেউ ভাবেন না, এটি তৈরিতে কতটা পানি খরচ হয়েছে। অথচ একটি প্যান্ট উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় গড়ে ৭ থেকে ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো হিসাবে এই পরিমাণ ১৫ হাজার লিটার পর্যন্তও হতে পারে।
বৈশ্বিকভাবে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি প্যান্ট উৎপাদিত হয়। ফলে পোশাকশিল্পে পানির ব্যবহার যে কত বিশাল, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
প্যান্ট তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। ডেনিমের মূল উপাদানও কটন বা তুলা। এক কেজি তুলা উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। একটি প্যান্ট তৈরিতে সাধারণত ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি তুলা লাগে। ফলে মোট পানির বড় একটি অংশ ব্যয় হয় তুলা উৎপাদনেই।
তুলা এমন একটি ফসল, যার চাষে প্রচুর সেচের প্রয়োজন হতে পারে। বৈশ্বিক কৃষিজমির মাত্র আড়াই শতাংশে তুলা চাষ হলেও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সেচের পানির প্রায় ১৭ শতাংশ এই ফসলের পেছনে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু তুলা চাষেই পানির ব্যবহার শেষ নয়। তুলা থেকে সুতা তৈরি, কাপড় বোনা, রং করা এবং ডেনিমকে কাঙ্ক্ষিত রং ও ধরন দেওয়ার বিভিন্ন ধাপেও পানি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ডেনিমের রং ও ফিনিশিংয়ের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়।
তুলা চাষের অতিরিক্ত পানিনির্ভরতার প্রভাব পরিবেশেও পড়েছে। মধ্য এশিয়ার আরাল সাগর এর অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। সোভিয়েত আমলে তুলা চাষের জন্য নদীর পানি ব্যাপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ফলে একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই হ্রদটি প্রায় শুকিয়ে যায়।
অর্থাৎ একটি প্যান্টের পরিবেশগত প্রভাব শুধু কারখানার পানির ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ নয়; তুলা উৎপাদন থেকে শুরু করে কাপড় তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পুরো সরবরাহশৃঙ্খলেই বিপুল পানি ব্যবহৃত হয়।
তাই পানির অপচয় কমাতে টেকসই তুলা উৎপাদন, কম পানিনির্ভর প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহৃত পানি এবং পুরোনো পোশাক পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।










