চৌদ্দগ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে, লক্ষাধিক মানুষের স্বস্তি

চৌদ্দগ্রামঃপ্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫২টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ইটের সলিং ও পাকা সড়ক নির্মাণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন তৈরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরঞ্জাম সরবরাহসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে স্থানীয় অবকাঠামোয় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এই বরাদ্দের মাধ্যমে নেওয়া প্রকল্পগুলোর ফলে ওই এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ সরাসরি এবং প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে সুফল পাচ্ছেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, যোগাযোগ অবকাঠামো: মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনা পশ্চিম পাড়া মনিরের দোকান থেকে কাজী বাড়ির শফিক মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত পাকা সড়ক এবং মৌলভী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে আরব আলীর বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিং।

কাশিনগর ইউনিয়নের রানীর বাজার রাস্তার মাথা থেকে খোরশেদ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা, উজিরপুর ইউনিয়নের ইলাশপুর মক্তব থেকে ঈশানপুর পর্যন্ত ইটের সলিং, ঘোলপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া শ্মশান থেকে মো. আব্দুর রশিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা মুন্সিবাড়ি পূর্বপাড়া পর্যন্ত ইটের সলিং।

‎এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ২০৬টি রাস্তা, ৩০টি ইউ-টার্ন ড্রেন, ১০টি মাটি ভরাট, ৪টি কবরস্থান উন্নয়ন ও ২টি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম হাজী জাফর আলী সরকারি হাইস্কুল ও শাহ মিয়াজান ফকির ইসলামিয়া মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরও রয়েছে।

প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে। কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা গ্রামীণ পথগুলো এখন ইট-পাথরে ঢেকে যাওয়ায় মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারছেন।

জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের বরদৈন গ্রামের মুজিবুর রহমান বলেন, “শাহ মিয়াজান ফকির ইসলামিয়া মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর তৈরি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। এটি আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য।

জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আগা সাহেদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কাজগুলো শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। আগে বর্ষায় যে পথে হাঁটা যেত না, তা এখন সুগম হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় সর্বমোট ২৪৬টি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পৌরসভা ও উপজেলার প্রান্তিক মানুষ যেন দ্রুত সুফল পায়, সে লক্ষ্যেই রাস্তা ও ড্রেনের কাজগুলো প্রাধান্য দিয়ে শেষ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *