মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলোয় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে জেনারেটর ও আইপিএস থাকার পরও সেগুলো সচল না থাকায় তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারের কক্ষ অন্ধকার। সেখানে মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
সেদিন জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা অন্ধকারে পড়ে যান। জেনারেটর ও আইপিএস কেন সচল নেই—এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে এসি চালু থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় প্রয়োজনীয় ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে তদন্তের পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রধান সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও রাতে জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়া রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি গ্রহণ করেননি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। এগুলো কেন সচল নেই, তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতালের বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা দ্রুত সচল না হলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।












