নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বর্ষা মৌসুম থাকায় রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও। প্রতিদিনই জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম চালু না করা হলে এবং বাড়ির নর্দমা, ডোবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না রাখলে ডেঙ্গু আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, রূপগঞ্জে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষের বসবাস। আর এই ঘনবসতিপূর্ণ উপজেলায় দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগিরা চিকিৎসা নিতে আসছেন রুপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে । রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট রোগীর সংখ্যা ৮৯ জন। শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন। এর বাইরে উপজেলার ২৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অবস্থা অবনতি হলে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন। অবস্থা উন্নতি হলে অনেকে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার অবস্থা অবনতি হলে অনেকে রেফারড করা হচ্ছে। ডেঙ্গু হলে সাধারণত হঠাৎ করে উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়।
রোগীদের অনেকেই জানান, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে বাড়িতে চিকিৎসা নিলেও কয়েকদিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে আক্রান্ত এসব রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নিলেই হবে না, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে সেগুলো পরিষ্কার রাখা হলে ডেঙ্গুর প্রভাব কমানো সম্ভব।
রোগীরা জানান, কয়েকদিন ধরে অনেক জ্বর ছিল। শরীর ও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা করছিল, মাথা ঘুরছিল। হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানোর পর জানতে পারি ডেঙ্গু হয়েছে। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছি।
সাওঘাট এলাকা থেকে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী আহমদ আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের কার্যক্রম চালালেও আমাদের রূপগঞ্জে তেমন কোন কার্যক্রম নেই। যার ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা; ড: তানসিভ জুবায়ের বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। যদি আমাদের বাড়ির আশপাশের যেখানে সেখানে পানি না ফেলাই তাহলে ডেঙ্গুর মশায় যেই ডিম পারবে সেটি আর পারতে পারবে না। মশার বংশবিস্তার করতে পারবে না এভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে করে পাড়া মহল্লায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় থাকা ময়লা আবর্জনা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। এছাড়া মানুষের মাঝে গণসচেতনতা তৈরি করা হয়। তাহলে ডেঙ্গু মুকাবেলা করা সম্ভব।
স্থানীয়দের মতে, ডেঙ্গু বিস্তার কমাতে হলে সকলেরই সচেতন হতে হবে। এবং যদি মশা নিধন কার্যক্রম চালু করা হয় তাহলে ডেঙ্গু আশঙ্কা কমবে।












