নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটাররা প্রশাসক নয়, দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চান।
সম্প্রতি রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতা মো. নূরনবী ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ নেতা-নেত্রীকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোট ছাড়া এভাবে জনপ্রতিনিধি নিয়োগে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, প্রশাসক ও সদস্যদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ১২০ দিন।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে প্রশ্নও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, একটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হলেও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসক হতে পারেন না।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে তৃণমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইউনিয়ন পরিষদের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এসব কার্যক্রমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রশাসকের মাধ্যমে সাময়িকভাবে পরিষদের কার্যক্রম চললেও দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হলে পরিষদের প্রতি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি দুটিই বাড়বে।
এদিকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রশাসক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা আগামী ১২০ দিনের জন্য পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, সেটিই এখন স্থানীয়দের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশের ফলে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনিক শূন্যতা দূর হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা, এর পরবর্তী ধাপ যেন নির্বাচনের দিকে এগোয়।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন প্রশাসক দিয়ে পরিষদ চালানো যেতে পারে, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানা জনগণের। সেই মালিকানা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে ভোট।
তাদের দাবি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে জনগণের ভোটে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।












