নির্বাচনে ভয় আইনজীবীদের একাংশের, পেছালো নারায়ণগঞ্জ বার নির্বাচন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে না করে আরও কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচিত বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন আয়োজন না করে আগামী জানুয়ারিতে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ আইনজীবীদের একটি অংশের অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বর্তমান নেতৃত্ব ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাধারণ সভায় আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়। সভায় নির্বাচন জানুয়ারিতে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে উপস্থিত আইনজীবীদের সম্মতির ভিত্তিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেক আইনজীবী। তাদের প্রশ্ন, একটি নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ এক বছর হলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচন না করে আরও প্রায় চার মাস বর্তমান কমিটিকে দায়িত্বে রাখার যৌক্তিকতা কী?

আইনজীবীদের একটি অংশের দাবি, নির্বাচন পেছানোর পক্ষে সভায় সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ তুলে ধরা হয়নি। ফলে এজিএমে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনজীবী গোলাম মের্দেশ গালিব বলেন, প্রয়োজনে নির্বাচন চৌদ্দ মাস পেছানো হোক। তবে কারণ থাকতে হবে তো। এখানে একজন একটা প্রস্তাব দেয়, কয়েকজনে ‘পাস পাস’ বলে দেয়। এটা তো সাংবিধানিক হয় না।

অন্যদিকে বর্তমান কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলেন, অতীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সাধারণত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতো। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছর ২৮ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২৮ আগস্ট শেষ হবে।

তাদের দাবি, আগের নির্বাচনের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে এবার আবার জানুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে বর্তমান কমিটির মেয়াদ দীর্ঘ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই বলেও তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, “আইনজীবীরা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন নির্বাচনটি জানুয়ারিতে করার জন্য। এ কারণেই আমরা নির্বাচন পিছিয়েছি।”

তবে সাধারণ আইনজীবীদের একাংশের প্রশ্ন, যদি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনজীবীর মতামত থাকে, তাহলে সেই মতামতের ভিত্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে এবার আগে থেকেই রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের প্রার্থীতা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ আইনজীবীদের একটি অংশ মনে করছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও সিদ্ধান্তটি সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *