নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের প্রকট সংকট, উৎপাদনে ধস ও কারখানা বন্ধের শঙ্কা

 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের অন্যান্য কিছু এলাকায় শিল্পকারখানার গ্যাস পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে গ্যাস-সংকট এখনো প্রকট আকার ধারণ করে আছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপে (পিএসআই) ঘাটতি থাকায় জেলার শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি কোনো কোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পপার্কে অবস্থিত ‘এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং’ কারখানায় গত ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে কারখানাটির উৎপাদন একপ্রকার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মহ ব্যবস্থাপক বাবুল হোসেন জানান, তাঁদের কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১১০ টন কাপড় ডাইং করার সক্ষমতা রয়েছে। ডাইং চার্জ প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা হিসেবে প্রতিদিন তাঁদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ডাইং বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) সেকশনে চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করা যাচ্ছে না, যার ফলে পোশাক খাতের পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

একই পরিস্থিতির শিকার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শিল্পকারখানাগুলোও। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম জানান, সোনারগাঁয়ে অবস্থিত তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান ‘চৈতি কম্পোজিট’-এ গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন কমে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় এক মাস ধরে এলাকার অধিকাংশ বস্ত্রকলেই এই অচলাবস্থা চলছে।

বিটিএমএ নেতারা জানিয়েছেন, টানা গ্যাস-সংকটের কারণে জেলার বস্ত্রকল ও শিল্পকারখানাগুলো আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হতে থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও তৈরি পোশাক ও সুতা সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন। উদ্যোক্তারা দ্রুত নারায়ণগঞ্জ এলাকার শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *