জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে হিমবাহের বরফ হারানোর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
হিমবাহের এই দ্রুত পরিবর্তন শুধু পাহাড়ি এলাকার জন্য নয়, এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ। হিন্দুকুশ হিমালয় থেকে উৎপত্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানির ওপর বিপুল জনগোষ্ঠী নির্ভরশীল। হিমবাহ গলার পাশাপাশি হিমবাহের হ্রদ তৈরি ও সেগুলোর বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের (জিএলওএফ) ঝুঁকিও বাড়ছে।
সাম্প্রতিক নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনাও হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো দুর্যোগকে শুধু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ঘটেছে বলা না গেলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আইসিমোডের তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুকুশ হিমালয়ে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে। এ অঞ্চলের হিমবাহগুলোর বরফ ক্ষয়ের হার ২০০০ সালের পর থেকে দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট আকারের হিমবাহগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপর্যয় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ ও হ্রদ শনাক্তকরণ এবং আগাম সতর্কতাব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোন হিমবাহ কখন ধসে পড়বে, তা এখনো নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।












