পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, পাঁচ করবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে দাবিকৃত বকেয়া করের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল দুটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে।
গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করায় আপাতত বকেয়া অর্থ আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসানও জানিয়েছেন, হাইকোর্টের দুটি রায়ের নির্দেশনা অংশ স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি রায়ে দ্রুত বকেয়া কর আদায়ের পদক্ষেপ নিতে এবং অন্যটিতে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যে পাঁচ করবর্ষের কর নিয়ে বিরোধ
২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের প্রদেয় কর নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। পুনর্মূল্যায়নের পর কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয় এবং শর্তসাপেক্ষে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।
পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ বিষয়টি হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে শুনানি শেষে হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের রিট দুটি খারিজ করে দেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ১২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের আইন অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে।
কর নিয়ে বিরোধের কারণ
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করা হয়। চুক্তি অনুসারে, শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর অর্জিত মুনাফার ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাওয়ার কথা গ্রামীণ কল্যাণের।
তবে ওই অর্থ লভ্যাংশ আয়, নাকি অন্যান্য উৎস থেকে আয়—তা নিয়ে কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। কর কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থটি লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা না করে সুদ বা বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় হিসেবে গণ্য করা উচিত।
গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত হাইকোর্টের বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত থাকবে।