জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে গ্রামীণ কল্যাণ। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ আপিল দায়ের করা হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে সিদ্ধান্ত দেন, এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ কল্যাণকেই পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আগে জারি করা রুল খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের স্বাক্ষরের পর গত ১২ অক্টোবর এ মামলার দুটি পৃথক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায় দুটি যথাক্রমে ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আপিল বিভাগে আবেদন করল প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার আগের ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়সংক্রান্ত আগের একটি রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করেছিলেন। পরে মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়।
এনবিআরের কর দাবির সূত্রপাত আরও আগে। কর পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের বকেয়া রাজস্ব হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করে রাজস্ব বোর্ড। এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছিল।
প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত তখন রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাগুলোর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ হওয়ায় এনবিআরের দাবিকৃত কর পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের পর এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
আপিল বিভাগে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত এ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আপিল দায়েরের অর্থ এই নয় যে হাইকোর্টের রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়েছে; এ বিষয়ে আদালতের পৃথক আদেশ থাকলে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
