নিউজ আপডেট
নিউজ আপডেট

বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, দল তাঁর পদত্যাগ চায়নি। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে অতিরঞ্জিত ও কল্পনানির্ভর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। এর আগে সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্য তথ্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত বক্তব্য ও কল্পকাহিনি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হেয় করা হয়েছে এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানান।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গেণ্ডারিয়া এলাকায় তাঁর একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক ওই এলাকায় অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায় বলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা আসে। তবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেন। অভিযানের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। ওই ঘটনাতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ২ উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারেন। মন্ত্রী সেই অনুরোধ পালন করতে ব্যর্থ হলে তাঁকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রোববার দুপুরে ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং তাঁকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র দেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর বাবা নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তিনি ঢাকা-৬ আসনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা আরও দৃশ্যমান হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। তবে শপথ গ্রহণ নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে নগর ভবন অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

Share.