নিউজ আপডেট
নিউজ আপডেট

চট্টগ্রামের রবিন থেকে গিটারসম্রাট হয়ে ওঠা আইয়ুব বাচ্চুর জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা উচিত বলে মনে করেন গীতিকবি ও সংগীত প্রযোজক আসিফ ইকবাল। তাঁর মতে, ব্যর্থ প্রথম অ্যালবাম, সোলস ছেড়ে নিজস্ব ব্যান্ড গঠন, সংগীতজীবনের নানা উত্থান-পতন ও অকালমৃত্যু—সব মিলিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর জীবনেই রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমার গল্প। নতুন করে গল্প তৈরি করার প্রয়োজন নেই, ঘটনাগুলো যথাযথভাবে সাজালেই তৈরি হতে পারে চিত্রনাট্য।

আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারের একটি ভবনে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন আসিফ ইকবাল। চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ানস ক্লাব ঢাকা, আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন ও তাঁর বন্ধুমহল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে আসিফ ইকবাল বলেন, একজন শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। আইয়ুব বাচ্চুর গানও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষকে আলোড়িত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

পরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে আইয়ুব বাচ্চুর জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করেন তিনি। আসিফ ইকবাল বলেন, চট্টগ্রামের রবিন থেকে গিটারসম্রাট হয়ে ওঠা, প্রথম অ্যালবামের ব্যর্থতা, সোলস ছেড়ে ২৮ বছর বয়সে নিজের ব্যান্ড গঠন, ১৯৯২ সালে দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ, সতীর্থদের সঙ্গে বিরোধ এবং ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যু—সবই তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আসিফ ইকবালের ভাষ্য, এসব ঘটনা নিয়েই একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমা তৈরি করা সম্ভব। চিত্রনাট্যকারকে নতুন করে কিছু কল্পনা করে বানাতে হবে না, বরং বাস্তব ঘটনাগুলো সঠিকভাবে সাজাতে হবে।

সিনেমায় তুলে ধরা যেতে পারে অপূর্ণ স্বপ্ন

আসিফ ইকবালের মতে, আইয়ুব বাচ্চুর দুটি স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে। এর একটি ছিল রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১৫ লাখ মানুষের সামনে কনসার্ট করা। অন্যটি ছিল তরুণদের গিটার শেখানোর জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

তাঁর মতে, সিনেমার মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম স্বপ্নটি পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব। আর তরুণদের গিটার শেখানোর প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন পূরণে অর্থ সংগ্রহের পথও তৈরি হতে পারে।

আইয়ুব বাচ্চুর অপ্রকাশিত গানগুলোর কথাও উল্লেখ করেন আসিফ ইকবাল। তাঁর ভাষ্য, এবি ফাউন্ডেশনের হাতে শিল্পীর প্রায় ২০০টি গান রয়েছে, যেগুলো ধাপে ধাপে প্রকাশের পরিকল্পনা আছে। এসব গানও আইয়ুব বাচ্চুর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।

নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে তাঁর গল্প

সংগীতশিল্পীদের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা তুলে ধরে আসিফ ইকবাল বলেন, দেশে রাজনীতিকদের জীবন নিয়ে বায়োপিক নির্মিত হলেও সংগীতশিল্পীদের জীবন নিয়ে তেমন চলচ্চিত্র হয়নি।

তাঁর মতে, আইয়ুব বাচ্চুর জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মিত হলে তাঁর সংগীত, সংগ্রাম ও স্বপ্নের গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলসে ‘রুপালি গিটার’ গানটি চিনলেও শিল্পীর পুরো জীবন ও সংগীতযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ সীমিত।

এ প্রসঙ্গে সংগীতশিল্পী ফ্রেডি মার্কারিকে নিয়ে নির্মিত বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি চলচ্চিত্রের উদাহরণ টানেন আসিফ ইকবাল। তাঁর মতে, সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের বিশেষত্ব হলো, দর্শকেরা অনেক সময় শিল্পীর গান আগে থেকেই চেনেন। ফলে গান ও শিল্পীর জীবনের গল্প একসঙ্গে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। আইয়ুব বাচ্চুর ক্ষেত্রেও তাঁর গান ও জীবন হতে পারে এমন চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন আসিফ ইকবাল। তিনি জানান, তাঁর লেখা ‘১০০টা স্বপ্ন’ গানটি গেয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর নিজের স্বপ্নগুলো পর্দায় তুলে ধরার দায়িত্ব এবার অন্যদের নেওয়া উচিত।

শিল্পীকে মনে রাখার সবচেয়ে বড় উপায় তাঁর সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া বলে মনে করেন আসিফ ইকবাল। তাঁর মতে, আইয়ুব বাচ্চুর জানাজায় মানুষের ঢলই প্রমাণ করে, মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবাসত। সেই ভালোবাসা শুধু স্মরণানুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর জীবন, সংগীত ও স্বপ্নের গল্প পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া, পিলু খান, রফিকুল আলম, ফোয়াদ নাসের বাবু, আসিফ আকবর, কোনাল, জয় শাহরিয়ার, শফিক তুহিনসহ সংগীতাঙ্গনের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Share.